Top Newsমোহনপুরে কাঁসাই নদীর উপর অ্যানিকেট বাঁধ পরিদর্শনে মানস ভূঁইয়া মোহনপুরে কাঁসাই নদীর উপর অ্যানিকেট বাঁধ পরিদর্শনে মানস ভূঁইয়া
SBN Digital: লাগাতার বৃষ্টি আর দামোদরের ছাড়া জলে ভাসল ঘাটাল। চন্দ্রকোনা ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি মৌজা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঘাটাল পুরসভার ১৩টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রশাসনের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন বিকেলে সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া প্রথমে চন্দ্রকোনা এক ও দুই নম্বর এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় যান।
দুর্গত মানুষদের ত্রাণ বিলি করেন। পরে তিনি ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজপুরে যান। সেখানে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ত্রাণশিবিরে গিয়ে শতাধিক মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন মানসবাবু। পরে তিনি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ঘাটাল মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছিলেন ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আর ভেঙ্কটরাও, ঘাটালের বিডিও অভীক বিশ্বাস, সেচ দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত চট্টোপাধ্যায়, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হাজরা, বিধায়ক অরূপ ধাড়া, জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুতাইত, জেলা পরিষদ সদস্য শংকর দোলই, ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর প্রমুখ। বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী ডিভিসিকে দুষে বলেন, “বারবার বলা সত্ত্বেও জল ছাড়া বন্ধ করেনি ডিভিসি ও গালুড়ি জলাধার কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারকে বলেছেন জল ছাড়া বন্ধ করতে। তাও শোনেনি। জল ছাড়া চলছেই। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। সেই জল নেমে এলেই ঘাটাল পুরোপুরি ডুবে যাবে। সমস্ত দপ্তরকে সতর্ক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ দারুন কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন কেউ যেন ত্রাণ থেকে বঞ্চিত না হন। সমস্ত ব্লক ও পঞ্চায়েতে কন্ট্রোল রুম খুলতে বলা হয়েছে।” সেচ দপ্তর জানিয়েছে, সবক’টি নদীর জলস্তর বেড়েছে। তবে কোথাও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এদিন পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয়শো মিলিমিটার। ঘাটাল ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পূর্ণ ও একটি গ্রাম পঞ্চায়েত বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে বলে জানান ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর।
তিনি বলেন, “ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক ১ও২, অজবনগর ১ ও ২ নম্বর ও ইড়পালা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের আংশিক জলমগ্ন। তবে এখনও কোনও ত্রাণশিবির খুলতে হয়নি। জল আরও বাড়ছে। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি।”ঘাটাল পুরসভার ১৩টি ওয়ার্ড জলবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পুর চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা। এদিন সকাল থেকে ঘাটাল শহরে চলছে নৌকা, ডিঙি ও ডোঙা। তিনি বলেন, “জল ক্রমশ বাড়ছে। আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। আমরা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।” এদিকে, বুধবার রাতে অতিবৃষ্টিতে দাসপুর দুই নম্বর ব্লকের জোতঘনশ্যাম গ্রামের একটি মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে পরিবারের চারজন সদস্য। দেওয়াল চাপা পড়ে মারা গিয়েছে গৃহপালিত চারটি ছাগল। রাতেই পৌঁছে যান কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুতাইত। তিনি জানান, “ওই পরিবারটি খুবই গরিব। ইতিমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারটিকে সবরকমের সাহায্য করা হবে।” অন্যদিকে, এদিন সকালে মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে মোহনপুরে কাঁসাই নদীর উপর অবস্থিত অ্যানিকেট বাঁধ পরিদর্শন করেন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি থেকে শুরু করে সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাও। মানসবাবু বলেছেন, গত দু-তিন বছরের তুলনায় এবছর অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতিকে রোখার ক্ষমতা কারও না থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জেলাশাসকও জানিয়েছেন, এবছর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। গড়বেতার একটা উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, গত বছর বর্ষাকালে যেখানে গড়বেতায় ৫৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, সেখানে এবছর ৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১০০ মিলিমিটার। তার উপর জল ছাড়া হচ্ছে জলাধারগুলি থেকে।