Top Newsসবংয়ে ছাত্রীর দেহ সৎকার, বেহাল পথকে দায়ী করে রাস্তার দাবি থেকে সরছে...

সবংয়ে ছাত্রীর দেহ সৎকার, বেহাল পথকে দায়ী করে রাস্তার দাবি থেকে সরছে না বসন্তপুর

SBN Digital: একদিকে শোক। অপরদিকে ক্ষোভ। এই দুই বিপরীতধর্মী পরিবেশ সবং ব্লকের ভেমুয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বসন্তপুর গ্ৰামে। গ্ৰামবাসীদের এখনও বদ্ধমূল ধারণা রাস্তাটি যদি ঠিক থাকতো তাহলে মেয়েটিকে হয়ত বাঁচানো যেত। রাস্তাটির বেহাল দশার কারনে সবকিছু জোগাড় করে রওনা হতে গিয়ে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর সেই কারনেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত শনিবার দুপুরে বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে দশম শ্রেণীর ছাত্রী পিংকি পাড়ি। ঘটনাটি মা ছবি পাড়ির নজরে পড়ার পরই প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে ১৬ বছরের নাবালিকা পিংকিকে উদ্ধার করা হয়। তারপর তাকে দ্রুত সবং গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেও যায়। কিন্তু নাবালিকার বাড়ির সামনের রাস্তা বেহাল অবস্থা থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না পেরে ১৫০ মিটার দূরে ঢালাই রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। তারপর নাবালিকাকে একটি দোলায় চাপিয়ে নিয়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সবং গ্ৰামীণ হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। গ্ৰামবাসী স্বপন সামন্ত, রামপদ কর, বকুরাম সামন্ত সহ অনেকেই মনে করেন মেয়েটিকে উদ্ধারের পর আরও আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হয়ত বাঁচানো সম্ভব হত। পাশাপাশি তাঁরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন পাকা রাস্তা হওয়া তো দূরের কথা। তাঁদের জন্মের পর থেকে এই রাস্তাটি সংস্কার হতে দেখেন নি। আর এই পরিস্থিতির জন্য তাঁরা ব্লক প্রশাসনকে দায়ি করলেন সোমবার। তাঁরা বললেন ” এই ১৫০ মিটার বেহাল রাস্তায় টোটো বা মারুতি তো দূরের কথা। বাইক নিয়ে ঢোকা যায় না।” যদিও দোলনায় করে নিয়ে আসার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া বিষয়টিকে রটনা বলেন। তিনি বলেন, এটা একটা রটনা হচ্ছে। দোলানায় করে আনা হচ্ছে, এই দোলা টোলনা কিছু না। তবে এই রাস্তাটি সহ ব্লকের এরকম আরও কিছু রাস্তা চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানালেন সবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ তরুন মিশ্র। তিনি বললেন ” বসন্তপুর গ্ৰামের ওই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ করা হবে। তারসাথে ব্লকে এইধরনের ছোটো ছোটো বেহাল রাস্তা চিহ্নিত করে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের অর্থে।”