SBN Digital: গোটা গ্রাম স্তম্ভিত। বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর কাহিনি, যা শুনে শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরাই। দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হওয়ায় প্রশান্ত বাউরির মনে সন্দেহ হয়। স্ত্রী মণি বাউরিকে গর্ভপাত করার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকে প্রশান্ত। মণি রাজি হয়নি। আর তাতে আরও সন্দেহ বাড়ে। বাঁকুড়া ২ ব্লকের সানবাঁধা অঞ্চলের ভূতশহরের বোগা বাউরিপাড়া গ্রামের ঘটনায় জেরার মুখে পড়ে প্রশান্ত পুলিশকে জানিয়েছে, বুধবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় কোলের সন্তনকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। মণি ঘুমিয়ে পড়ার পরেই দেড় বছরের কন্যার মুখে বালিশ চাপা দেয়। শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মৃত্যুর আগে শিশুর কান্নায় স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়। যে সন্তানকে নিয়ে অশান্তি বাড়ছিল পরিবারে, তাকে স্বামী খুন করেছে জেনেও চুপ করে থাকেন মণি। কারণ, স্বামীকে বাঁচাতে হবে। ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রশান্ত শিশুটির দেহ নিয়ে যায় বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরের এক পুকুরপাড়ে। ঝোপের আড়ালে ফেলে দিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে। আর শুরু করে কান্নাকাটি, সাজিয়ে তোলে নিখোঁজের গল্প। চোখের জলে বিশ্বাস জন্মাতে থাকে চারপাশে, আর সেই অভিনয়ে সঙ্গ দেয় মণি বাউরিও। এদিকে, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রশান্তের জীবনে এসেছিল পাশের পাড়ার এক গৃহবধূ। অপরদিকে, মণি বাউরির জীবনেও ফিরে এসেছিল পুরানো প্রেমিক। স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনেরই অবৈধ প্রেমের জেরে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের।
আর তার কেন্দ্রে যখন শিশুকন্যা এসে যায়, তখন প্রশান্ত খুন করল আর তা ঢাকতে সঙ্গ দিল স্ত্রী মণি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দম্পতিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণ করা হবে। পাশাপাশি খুঁজে দেখা হবে, শুধু সন্দেহর কারণেই কি এই শিশু খুন, নাকি এই অবৈধ প্রেমের জটিল জাল থেকে বেরিয়ে আসবে আরও কোনও গোপন বিষয়।
দেড় বছরের শিশু কন্যাকে খুন বাবা! তারপর ?
