খড়গপুর: পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়ে গুজরাট পুলিশের চরম অত্যাচার ও হেনস্থার শিকার হতে হল পিংলা থানা এলাকার ১০ জন যুবককে। এই যুবকদের বাংলাদেশী তকমা দিয়ে গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে মারধর করে সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও পরবর্তীকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আটক ১০ জনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ে আতঙ্কে এই যুবকের দল কুঁকড়ে রয়েছেন। আপাতত তাঁরা যে কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়েছেন সেই কোম্পানির একটি গুদাম ঘরে কোনোক্রমে দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই আতঙ্কের যে তাঁরা দলবদ্ধভাবে বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। যদি আবার পুলিশ হেনস্থা করে। তাই মঙ্গলবার থেকে এঁরা ছোটো ছোটো গ্ৰুপে ফিরতে শুরু করেছেন। এরকমই একজন অরূপ জানা। পিংলা থানার গোবর্ধনপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সাহরদা এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানালেন রবিবার ২৭ জুলাই তাঁরা ১০ জন সকাল ১১টা নাগাদ সুরাটে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি রুম ভাড়া করেন এক মাসের জন্য। তারপর ওইদিন রাত ২টার সময় সুরাট পুলিশ রুমে হানা দেয়। বাংলাদেশী তকমা লাগিয়ে দুটি রুম থেকে মোট ১০ জনকে মারধর করে সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় নিয়ে যায়। এই ব্যাপারে অরূপ বললেন ” আমরা সকলেই আধার কার্ড সহ ভোটার কার্ড ও পাসপোর্ট দেখাই। কিন্তু কোনও কথা সুরাটের পুলিশ শুনতে চায় নি। পরে সোমবার রাত ১২টা নাগাদ ১০ জনকে ছেড়ে দেয়। এখন আমরা কোম্পানির একটি গুদাম ঘরে কোনোক্রমে রয়েছি।
তবে ঠিক করেছি ভাগ ভাগ করে এক সপ্তাহের মধ্যে সকলেই ফিরে যাব। কারন এরকম ভয়ে ও আতঙ্কে থাকতে পারব না।” তিনি জানালেন ২৭ জুলাই যে আটজন গিয়েছেন তারমধ্যে চারজন পিংলা থানার গোবর্ধনপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সাহরদা এলাকার চারজন রয়েছেন। মালিগ্ৰাম গ্ৰাম পঞ্চায়েতের কেলেয়াড়া এলাকার দুজন রয়েছেন। আর সবং থানার শীতলদা এলাকার দুজন রয়েছেন। এছাড়া আগে কাজ করতে যাওয়া আরও ১০ জন রয়েছেন পিংলা ও সবং থানা এলাকার। এদিকে এই ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বললেন ” এরকম একটি ঘটনার খবর আমাদের কন্ট্রোল রুমে পৌঁছায়। ওরা কাগজপত্র পাঠায়। আমরা ভেরিফাই করে পাঠিয়ে দিই। পরে আমি নিজে কমিশনারের সঙ্গে কথা বলি। তারপর ওদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”
গুজরাটে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের চরম হেনস্থার শিকার পিংলা-সবং এর ১০ যুবক
