Top NewsKGP: দলেরই কর্মীর অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপির মন্ডল সভাপতি

KGP: দলেরই কর্মীর অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপির মন্ডল সভাপতি

খড়গপুর: বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত পিন্টু ওরফে বাবু সরকারকে মারধর করার ঘটনায় খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ শেষ পর্যন্ত বিজেপির খড়গপুর শহরের উত্তর মন্ডল সভাপতি দীপসোনা ঘোষকে গ্ৰেফতার করেছে। শনিবার রাতে দীপসোনা ঘোষকে পুলিশ খড়গপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লী গেট এলাকার বাড়ি থেকে গ্ৰেফতার করেছে। ধৃত বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও মারপিট করা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ধৃত বিজেপি নেতাকে রবিবার খড়গপুর এসিজেএম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের নির্দেশে ধৃত বিজেপির নেতার তিনদিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর নিজের শিবিরের দুই নেতার মধ্যে মারপিটের ঘটনায় রীতিমতো বিব্রত সাংসদ দিলীপ ঘোষ কড়া বার্তা দিয়েছেন। এদিকে দীপসোনাকে গ্ৰেফতারের ঘটনায় খড়গপুর শহরের বিজেপি নেতারা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও অনেকেই দীপসোনাকে গ্ৰেফতারের ঘটনা ভালোভাবে নেন নি। অনেকেরই বক্তব্য ঘটনার পর দিলীপ ঘোষের উচিত ছিল দুই পক্ষকে নিয়ে বসে মিটমাট করে দেওয়া।

কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেটি না হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খড়গপুর শহরের এক সিনিয়র বিজেপির নেতা বললেন ” ঘটনাটি নিন্দাজনক ঠিকই। হওয়া উচিত হয় নি। তবে বিষয়টি থানা পুলিশ না করে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা করে মিটিয়ে দিলেই ভালো হত। এতে হয়ত কারোর ব্যাক্তিগত স্বার্থ ও ইগো রক্ষিত হল ঠিকই। কিন্তু দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।” প্রসঙ্গত খড়গপুর শহরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গত শুক্রবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন থেকে ভারত মাতা পূজন উৎসব শুরু হয়েছে।

সেইদিন এই উৎসবের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন সাংসদ দিলীপ ঘোষ কিছু অনুগামীদের নিয়ে। এই উৎসবে বিজেপির খড়গপুর শহরের তিনটি মন্ডল কমিটির নেতা ও কর্মীরা রয়েছেন। সরাসরি বিজেপির নামে না হলেও এই উৎসবের পুরোটাই গেরুয়াময়। আর এই ভারত মাতা পূজন কমিটির সভাপতি বিজেপির খড়গপুর শহরের উত্তর মন্ডল সভাপতি দীপসোনা ঘোষ। উৎসব উদ্বোধনের দিন তাঁর সঙ্গে গন্ডগোল হয় দিলীপ ঘোষের ছায়াসঙ্গী পিন্টু ওরফে বাবু সরকারের। অভিযোগ ওইদিন দিলীপ ঘোষের সামনেই দীপসোনা ঘোষ ও তাঁর অনুগামীরা পিন্টু ওরফে বাবু সরকারকে বেধরক মারধর করেছে। ওই ঘটনার পরেই শুক্রবার দুপুরে পিন্টু ওরফে বাবু সরকার খড়গপুর টাউন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে সরাসরি বিজেপির খড়গপুর শহরের উত্তর মন্ডল সভাপতি দীপসোনা ঘোষ ও তাঁর এক অনুগামী শিবার নাম উল্লেখ করা হয়। যদিও পরে ভারত মাতা পূজন কমিটির পক্ষ থেকে খড়গপুর টাউন থানায় পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে পুলিশ শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে খড়গপুর শহরের সুভাষপল্লী গেট এলাকার বাড়ি থেকে দীপসোনা ঘোষকে গ্ৰেফতার করে। আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে দলের এক মন্ডল সভাপতি গ্ৰেফতারের ঘটনায়।

প্রশ্ন উঠেছে দিলীপ ঘোষের ছায়াসঙ্গী পিন্টু ওরফে বাবু সরকারের সংগঠনের কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিয়ে। এলাকা তথা গোটা শহরে সংগঠন তৈরির কাজে তাঁর অবদান নিয়েও বহু প্রশ্ন রয়েছে দলের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এই পরিস্থিতিতে খড়গপুর শহরে বিজেপির মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। যদিও এই ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ কড়া বার্তা দিয়েছেন রবিবার সকালে। এইদিন সকালে তিনি খড়গপুর স্টেশন লাগোয়া বোগদা এলাকায় একটি চা চক্রে বলেছেন ” এটা কোনও পার্টির ঝামেলা নয়। কারও ব্যাক্তিগত ঝামেলা হতে পারে। আর এর দ্বারা যদি মনে হয় পার্টির কোনও ক্ষতি হচ্ছে তাহলে পার্টি ব্যবস্থা নেবে। সে যেই হোক।” পাশাপাশি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন খড়গপুর শহরের সুভাষপল্লী গেট এলাকায় প্রায়ই নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল হয়। তিনি বললেন ” ওখানে তো প্রায়ই গন্ডগোল করে ওরা। আজ নয় একাধিকবার হয়েছে।” প্রসঙ্গত বছর দেড়েক আগে সুভাষপল্লী গেট এলাকায় দলেরই তারকা বিধায়ক হিরণের অনুগামী এক মহিলা কর্মী সহ কয়েকজনকে মারধর করার ঘটনায় এই দীপসোনা ঘোষ গ্ৰেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলা এখনও চলছে। তারমধ্যে ফের শনিবার গ্ৰেফতার হলেন দিলীপ ঘোষের ছায়াসঙ্গী পিন্টু ওরফে বাবু সরকারকে মারধর করার অভিযোগে।