নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের পিতৃ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে। হিরণের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি বক্তব্যের ভিডিও পেন ড্রাইভ করে জমা দিলেন সবং এর বলপাই ৯ নম্বর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মানিক মাইতি। মানিকের কথায়, “সোমবার বিকেলে বলপাই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে হুমকির সুরে বক্তব্য রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী হিরণ। পিতৃ মাতৃ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যা ওই নির্বাচনী সভার ভিডিও বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ পত্রের সাথে দেওয়া হয়েছে।”
মানিক বলেন, ওই নির্বাচনী সভায় হিরণকে বলতে শোনা গিয়েছে, “মা বোনেরা হাতে লাঠি ঝেটা বটি কাটারি নিয়ে থাকবে আর মিশ্রর বাহিনী যদি আসে তাহলে মা বোনেরা সামনে থাকবে, আমি থাকবো সামনে, আমার সাথে থাকবেন। কতবড় মিশ্র তুই বাপের বেটা তোকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলাম বলপাই মোড়ে। তুই যদি এক বাপের ব্যাটা হোস, মিশ্র তুই যদি এক বাপের ব্যাটা হোস যদি আমার কথা তুই শুনতে পাস, তোর যদি এক বাপ হয়, যদি জন্ম ঠিক থাকে, তুই একবার এসে এবারে ভোট লুট করে দেখ।
ঠ্যাং খোড়া করে দেবে এখানকার মা বোনেরা। এবারে ৯, ১০ নম্বর অঞ্চলের মা বোনেরা তোর ঠ্যাং খোড়া করে দেবে আমি থাকবো। কতবড় তুই গুণ্ডা হয়েছিস এবারে মা বোনেরা তার বদলা নেবে। কাকে বদলা বলে, মুখে বদলা বদলা শুনেছিস না। খড়গপুর মাফিয়ারা ছিল, তিনবছর আগে মাফিয়ারা গুলি আর বম নিয়ে রাজনীতি করত, গত তিনবছরে খড়গপুর একটা গুলি চলেছে, একটা বোম পড়েছে। খড়গপুর শান্তি আছে কারণ মাফিয়াদের সাথে আমি দেখা করেছি, বলেছি ভাই তোমাদের মা আছে, তোমাদের বোন আছে তোমারও সন্তান আছে।
আজকে তুমি একজনকে মারবে মায়ের কোল শূন্য হবে। যেদিনকে তোমাকে পাল্টা মারবে সন্তান আর বাবা বলে ডাকতে পারবে না। মাফিয়ারা আজ অর্ধমের পথ ছেড়ে ধর্মের পথ ধরেছে। তারা আর গুলি বন্দুক চালায় না। খড়গপুর শান্তি আছে। কথা দিলাম ভোটে জেতার পর সবং এর মানুষ শান্তিতে থাকবে।”
অন্যদিকে এ ব্যাপারে সবং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আবু কালাম বক্স বলেন, গতকাল সোমবার প্রথম থানায় ঢুকে দুর্বৃত্তদের পক্ষ নিয়ে পুলিশকে হুমকি দিয়েছে। পরবর্তীতে থানা থেকে বেরিয়ে ৯ নম্বর বলপাই অঞ্চলে প্রকাশ্যে মাইক ধরে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক তরুণ মিশ্র সহ বেশ কয়েকজন নেতাদের বিরুদ্ধে বলেছেন তাদের পা-হাত ভেঙে দেওয়া হবে। তাদেরকে তাড়িয়ে এলাকাছাড়া করা হবে। এটা কিছু নয় শুধুমাত্র ফুটেজ পাওয়ার জন্য ও খবরে শিরোনামে আসার জন্য হিরন এইরকম আবোল তাবোল বকে যাচ্ছে। কারণ বিজেপির পক্ষে বাংলা, মেদিনীপুর থেকে শুরু করে সবং এলাকায় মানুষ নেই। একজন বিজেপি প্রার্থী যখন আমাদের এলাকায় আসে তার পাশে কোন মানুষজন থাকে না। তাই দিশেহারা হয়ে পাগলের প্রলাপ বকছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিডিও, সবং থানা, ডিএম সহ পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
পাল্টা হিরন চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি সেখানে কি বলেছি ? আমি বলেছি যে গুন্ডা-হার্মাদ বাহিনী ভোট লুট করতে আসবে তাদেরকে যেন মা-বোনেরা হাতে,লাঠি-ঝাঁটা,কাটারি নিয়ে গণতন্ত্রকে-আত্মরক্ষা করার জন্য তাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে। আমাদের ভারতবর্ষের আইনে রয়েছে আত্মরক্ষা করার জন্য আপনার হাতে লাঠি-ঝাঁটা,বটি যদি থাকে আপনি আত্মরক্ষা করবেন না ? আর আমি তো মিশ্র বলেছি নাম বলিনি। মানে তৃণমূল স্বীকার করে নিল আমি যে হার্মাদ ও যে গুন্ডার নাম বলেছি সেটা অ্যাকচুয়ালি উনার দলের তরুণ মিশ্রের নাম। তৃণমূল ফাঁদে পা দিয়ে স্বীকার করে নিল। তৃণমূলের যে ডাক্তার বাবু তার এত বিশাল বুদ্ধি সে নিজের দলের নেতাদের হার্মাদ গুন্ডা বানিয়ে দিল। আমাদের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৯-২০২১ যা হয়েছে। ভাই তৃণমূল তোমাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলছি ২০২৩ পঞ্চায়েতে যা ভোট লুট করেছ করেছ। ২০২৪-সের লোকসভা আমার ভোট। দেখবো তোমাদের কত দম, তোমরা কত ভোট লুট কর।